প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ৪শ বছরের প্রাচীন শহর ঢাকা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ভাইসরয়দের শাসন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ঢাকাই ছিল আন্দোলনের সূতিকাগার। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা এখন টক অফ দ্য টাউন। পুরান ঢাকার অলিগলি থেকে চায়ের দোকান—সর্বত্রই এখন বইছে ‘নগরপিতা’ নির্বাচনের আগাম উত্তাপ।
ঢাকার নগর প্রশাসনের ইতিহাস দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি রাজনৈতিক সচেতনতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯০৬ সালে নবাব সলিমুল্লাহর বাসভবন আহসান মঞ্জিল থেকে শুরু হওয়া মুসলিম লীগের যাত্রা ঢাকাকে এক অনন্য পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন এক কিংবদন্তি। ১৯৯১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে তিনি যে ইতিহাস গড়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতা এখন তাঁর পুত্র ইশরাক হোসেনের কাঁধে।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ইশরাক হোসেন এখন সেই প্রাজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সেতুবন্ধন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ১৯ শতকের গোড়ায় ঢাকার পঞ্চায়েত প্রধানরা যেমন প্রভাবশালী ছিলেন, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ইশরাক হোসেন এখন পুরান ঢাকার সেই ‘গর্বের প্রতীক’।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইশরাকের মেয়র পদে লড়ার ঘোষণার পর বুধবার পুরান ঢাকার বংশাল, কোতোয়ালি ও সূত্রাপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন আহমেদ বলেন, "ইশরাক হোসেন পুরান ঢাকার গর্ব। তাঁর বাবা সাদেক হোসেন খোকা শেখ হাসিনাকে হারিয়ে যে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, ইশরাকও সেই ঐতিহ্যের ধারক।"
কোতোয়ালি থানা বিএনপির নেতা মো. ফরহাদ রানা বলেন, "২০২০ সালের নির্বাচনে ইশরাককে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছিল। তিনি ছাড়া জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীদের মোকাবিলা করার মতো যোগ্য দ্বিতীয় কেউ নেই। তাঁর বাবার আধুনিক 'মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট' এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইশরাকই একমাত্র ভরসা।"
সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ঢাকার মেয়র থাকাকালীন অন্ধকার রাস্তাঘাট আলোকিত করা, অসংখ্য কবরস্থান, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করে ঢাকাকে এক নতুন রূপ দিয়েছিলেন। ইশরাক হোসেনও সেই আদর্শ বুকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ইশরাক হোসেনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
জন্ম: ৫ এপ্রিল ১৯৮৭, ঢাকা।
শিক্ষা: যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।
পেশা: বাংলাভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সাফল্য: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য ও বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।
ব্যক্তিগত জীবন: ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর ব্যারিস্টার নুসরাত খানের সঙ্গে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, "আমার রাজনীতির প্রেরণা ও হিরো আমার বাবা। তিনি যখন দায়িত্ব ছাড়েন তখন সিটি করপোরেশনের তহবিলে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনে আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছিল। ভবিষ্যৎ যদি সুযোগ পাই, বাবার অসম্পূর্ণ আধুনিক নগর সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করব।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় ঢাকার মেয়র পদটি সব সময় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করেছে। ইশরাক হোসেনের এই ঘোষণা কেবল একটি পদের লড়াই নয়, বরং এটি সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক লিগ্যাসি পুনরুদ্ধারের লড়াই। বিশেষ করে এনসিপি ও জামায়াত জোটের ক্রমবর্ধমান শক্তির বিপরীতে বিএনপির হয়ে ঢাকার দুর্গ সামলানোর গুরুদায়িত্ব এখন ইশরাকের ওপর। তাঁর আধুনিক প্রকৌশলী বিদ্যা ও তারুণ্যের উদ্দীপনা ঢাকাকে বিশ্বের বুকে একটি মডেল শহর হিসেবে গড়ে তোলার পথে কতটুকু সহায়ক হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: যুগান্তর, ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজ, বিএনপি মিডিয়া সেল এবং পুরান ঢাকার স্থানীয় সংবাদদাতা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |